‘আমাকে একদিন দেখতে না পারলে রাসেল পাগলের মত হয়ে যেত। সে আমাকে খুবই ভালবাসতো। আমার প্রতিটা মুহূর্তের খবর নিত। এভাবে চলে তিন বছর। অবশেষে তাকে ...
‘আমাকে একদিন দেখতে না পারলে রাসেল পাগলের মত হয়ে যেত। সে আমাকে খুবই ভালবাসতো। আমার প্রতিটা মুহূর্তের খবর নিত। এভাবে চলে তিন বছর। অবশেষে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। নয়ত সে (রাসেল) আত্মহত্যা করবে।’ এমন করে যে লোকটি যুবতী সফিনাকে ভালবাসতো তার নির্যাতনের শিকার হয়ে সফিনা এখন হাসপাতালের বাসিন্দা। হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে তার ভালবাসার কথা ও ভালবেসে বিয়ে করা স্বামীর নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরে সফিনা।
বানিয়াচঙ্গ উপজেলার গুনই গ্রামের আব্দুল ছালেক মিয়ার কন্যা সফিনা বেগম (২৪) বলেন, স্বজনদের অজান্তে প্রায় ৫ বছর পূর্বে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে একই গ্রামের মৃত আব্দুস সহিদ মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রী রাসেল মিয়া (২৮) এর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভালই চলছিল সংসার। এ সংসারে জন্ম নেয় এক পুত্র ও ১ কন্যা সন্তান।
ইদানিং যৌতুকের জন্য রাসেল স্ত্রী সফিনার উপর নির্যাতন শুরু করে। এজন্য মাঝে মাঝে মনে হয় নিজের জীবনটাই শেষ করে দেই। যে মানুষটিকে ভালবেসে বিয়ে করলাম। সে আমার জীবনটা শেষ করে দিচ্ছে। নিজের জীবনের কোন মায়া নেই। ভালবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সে আমাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে হাসপাতাল পাঠিয়েছে। রবিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গৃহবধূ সফিনা বেগম এসব কথা বলেন। আলাপকালে সফিনা বলেন, দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল। রাসেল রবিবার সকালেও নির্যাতন করে। এতে আমি গুরুতর আহত হলে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মাথা ফাটা অবস্থায় বেডে শুয়ে কাঁতরাচ্ছে সফিনা।
এ প্রতিবেদকের কাছে নির্মম নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে সফিনার দু’চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝড়ছিল।