জীবন-মৃত্যুর ভেদরেখা মুছে দিয়ে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক অমর হয়ে গেলেন। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিক...
জীবন-মৃত্যুর ভেদরেখা মুছে দিয়ে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক অমর হয়ে গেলেন।
ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকালে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে সদর্প বিচরণকারী সৈয়দ হকের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হকও মনোরোগ চিকিৎসার পাশাপাশি লেখালেখিতে সক্রিয়।
সৈয়দ হকের মৃত্যুর খবর প্রচারে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় আনন্দ আয়োজনটি স্থগিত করেছে শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন উদযাপন কমিটি। শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল সৈয়দ হককে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই লেখকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্য গেলে সৈয়দ হকের ক্যান্সার ধরা পড়ে। লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে কিছু দিন চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিলে জীবনের বাকি দিনগুলো দেশে কাটানোর জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন তিনি।
ফেরার পর থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালেই ভর্তি হন তিনি। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে তাকে দেখে এসে তার চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হাসপাতালে সোমবার দুপুরে সৈয়দ হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোর থেকে কৃত্রিম উপায়ে তাকে শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল।
দুপুরে তাকে দেখে এসে কবি মুহাম্মদ সামাদ সাংবাদিকদের বলেন, সঙ্কটাপন্ন হলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া যাচ্ছে না।
তার কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিয়ে জানিয়ে দেন, এই লেখক আর বেঁচে নেই।
কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস, চলচ্চিত্রসহ সাহিত্যের সব শাখায় স্বচ্ছন্দ্য সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া এই সাহিত্যিকের হাত দিয়ে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নিষিদ্ধ লোবা ‘, ‘নীল দংশন’, ‘মৃগয়া’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘আয়না বিবির পালা’সহ বহু পাঠকপ্রিয় বই এসেছে।
তার লেখা নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরুল দীনের সারাজীবন’ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।