রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে এ মাসেই। এরপর টু-জি ও থ্রি-জি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি তরঙ্গ থাকবে রবির দখলে। এতে অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে টে...
রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে এ মাসেই। এরপর টু-জি ও থ্রি-জি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি তরঙ্গ থাকবে রবির দখলে। এতে অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে টেলিযোগাযোগ খাত।
একীভূতকরণের পর প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ গ্রাহক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসবে রবি। পৌনে চার কোটি গ্রাহকের বিপরীতে রবির কাছে টু-জি ও থ্রি-জি মিলিয়ে ৩৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ থাকবে। তবে এয়ারটেলের ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মধ্য থেকে পাঁচ মেগাহার্টজ ফেরত দেওয়ার কথা। তারপরও ৩৪ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ থাকবে রবির কাছে, যা গ্রামীণফোনের চেয়ে বেশি। পাঁচ কোটি ৬৩ লাখ গ্রাহক নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোনের তরঙ্গের পরিমাণ ৩২ মেগাহার্টজ। অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি গ্রাহক কম নিয়েও দুই দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বেশি থাকবে রবির কাছে। বেসরকারি তিন কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে কম (২০ মেগাহার্টজ) তরঙ্গ থাকবে বাংলালিংকের কাছে। তিন কোটি ১৩ লাখ গ্রাহক নিয়ে বাংলালিংক বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা (৪৪ লাখ ৩৭ হাজার) রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটকের কাছে থাকবে ২৫ দশমিক ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।
তরঙ্গ ভারসাম্যহীনতা নিয়ে ইতোমধ্যেই বাংলালিংকের পক্ষ থেকে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের কাছে লেখা এক চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘রবি-এয়ারটেল একীভূত হলে প্রতিষ্ঠানটির সম্মিলিত তরঙ্গের তুলনায় বাংলালিংকের তরঙ্গ অর্ধেক হবে, যা সেলফোন অপারেটরগুলোকে অসম প্রতিযোগিতায় ফেলবে।’
এ বিষয়ে বিটিআরসির মুখপাত্র ও সচিব মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার আগে ‘তরঙ্গ ভারসাম্যহীনতা’ নিয়ে আগাম কিছু বলা যাচ্ছে না। ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একীভূতকরণের কারণে সৃষ্ট ভারসাম্যহীনতা এড়ানোর বিকল্প তরঙ্গ নিলাম। কিন্তু বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের আগে নতুন করে তরঙ্গ নিলাম করতে পারবে না বিটিআরসি। এজন্য নীতিমালা সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, টেলিকম মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশি একে খান গ্রুপের যৌথ মালিকানায় একটেল নামে ১৯৯৬ সালে পথচলা শুরু করে। ২০১০ সালে মালিকানা বদলের পর রবি নামে ব্যবসা শুরু করে কোম্পানিটি। অন্যদিকে, ২০১০ সালে ওয়ারিদ টেলিকম কিনে নিয়ে এয়ারটেল নামে ব্যবসা শুরু করে ভারতী এয়ারটেল। দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এটি সবচেয়ে বড় একীভূতকরণের ঘটনা।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, টেলিযোগাযোগ খাতের রবি ও এয়ারটেল একীভূত করতে গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ দুই কোম্পানির একীভূতকরণ ফি (১০০ কোটি টাকা) নির্ধারণ করা হয়। মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের অনুমোদনের পর চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে এ প্রক্রিয়া।