ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল টাইগাররা। সিরিজ বাঁচাতে চাই জয়। এমন সমিকরণে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যার্থতায় ২৩৯ রানের সহজ টার্গটে দিয়েছে ইংল্যান্ডক...
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল টাইগাররা। সিরিজ বাঁচাতে চাই জয়। এমন সমিকরণে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যার্থতায় ২৩৯ রানের সহজ টার্গটে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে।
মাত্র ২৩৯ রানের লক্ষ্য খুব বেশি কঠিন লক্ষ্য নয় ইংল্যান্ডের সামনে। তবে মাশরাফি-তাসকিন-সাকিব-নাসিরদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩৪ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইংল্যান্ডের। এ জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।
২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪.৪ ওভারে সবকয়টি উইকটে হারিয়ে রান ২০৪ সংগ্রহ করে সফরকারিরা। ফলে ৩৪ রানের দারুন জয় পায় স্বাগতিকরা। এ জয়ের ফলে সিরিজ নিশ্চিত করে আগামী ১২ অক্টোবর বুধবার চট্টগ্রামে অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারের মাশরাফির দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে জেমস ভিন্সকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এতে ভিন্সের ক্যাচটি তালুবন্দী করে দলের প্রথম উইকেটে সহযোগিতা করেন মোসাদ্দেক।
ঠিক পরের ওভারেই সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন গত ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করা বেন ডাকেট। ফিরেন শূন্য রানে। এরপর আবার টাইগার দলপতির আক্রমন। তার বলেই ফিরেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় এবং গত ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ান বেন স্টোকস। তরুণ পেসার তাসকিনের শিকার হন বেয়ারস্টো, জস বাটলার ও ওকস।
টাইগারদের পক্ষে মাশরাফি ৪ ও তাসকিন নেন ৩টি করে উইকেট। এছাড়াও সাকিব, নাসির ও মোসাদ্দেক নেন ১টি করে উইকেট। আর ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন অধিনায়ক জস বাটলার। এছাড়াও বেয়ারকোস্ট ৩৫, রশিদ আলী অপরাজিত ৩৩ ও ওপেনার রয় করেন ১৩ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে খুব ঠান্ডা মাথায় খেলছিল দুই ওপেনার তামিম-ইমরুল। কিন্তু ইনিংসের ৬.৫ ওভারে হারাতে হয় ইমরুলকে।
ক্রিস ওকসের শট বলের লোভ সামলাতে না পেরে ডিপ স্কয়ার লেগে তুলে দিলেন আকাশে। ডেভিড উইলিও ক্যাচের লোভ সামলাতে পারেননি। তুলাবন্দি করে নিলেন ইমরুলের ক্যাচ। ফলে ১৮ বলে মাত্র ১১ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় প্রথম ম্যাচে শতক পাওয়া এই ব্যাটসম্যানকে।
ক্রিস ওকসের একই ফাঁদে পা দিলেন তামিম ইকবালও। ওকসের শট বলে ক্যাচ তুলে মঈন আলীর তালুবন্দি হন তামিম। সাজঘরে ফেরার পূর্বে তার সংগ্রহ ৩১ বলে ১৪ রান।
তামিম-ইমরুলের বিদায়ের পর দলের ভরসা হিসেবে ছিলেন সাব্বির। কিন্তু ব্যার্থ হলেন তিনিও। গত ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া তরুণ পেসার বলের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ৩ রান করে ফিরেন সাব্বির।
সাব্বিরের বিদায় বেশ ভালো জুটি বেঁধে ছিল মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক। তবে সে জুটি ৫০ রানের বেশি গড়াতে পারলো না। মাত্র ২১ রানে আবারও বলের শিকার হতে হলো রান খরায় থাকায় মুশফিককে। বাউন্ডারি লাইনের কাছে মঈন আলির তালুবন্দী হন তিনি।
নিয়মিত বিরতিতে ব্যাটসম্যানরা যখন আসা-যাওয়ার মধ্যে মেতে তখনই তাদের দলে যোগ দিলেন সাকিব। প্রথম ম্যাচে ৭৯ রানের ঝড় ইনিংস খেলে এই অলরাউন্ডার আজ মাত্র ৩ রান করে ফিরেন। বেন স্টোকসের বলে জস বাটলারের গ্লাভস বন্দি হয়ে সাজঘরে যেতে হয় সাকিবকে।
দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে এদিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মাহমুদউল্লাহ। রাশিদ আলির বলে বোল্ড হওয়ার পূর্বে ৭৫ রানের দারুণ একটি ইনিংস উপহার দেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়াও সৈকত করেন ২৯ রান।
আর দলের প্রয়োজনে ফিরে আসা নাসির ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। জ্বলে উঠেন দলপতি মাশরাফি। দুর্দান্ত ম্যাচ খেলেন টাইগার অধিনায়ক। ২৯ বলে ৪৪ রানের ঝড় ইনিংস খেলেন মাশরাফি। ৩ ছয় ২ চারে সাজানো এই ইনিংসে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরতে হয় তাকে। ইংল্যান্ডের পক্ষের ওকস, রাশিদ ও বল নেন ২টি করে উইকেট এছাড়াও স্টোকস নেন একটি।
মাধবপুর বার্তা'র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।